Business
Top Stories
Business
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর প্রবেশমুখ গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) মহাসড়ক অবরোধের ফলে যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।এদিকে শ্রমিকদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদেও তারা আন্দোলন করছেন।এর আগে গতকালও (রোববার) সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সেদিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।অপরদিকে বিক্ষোভ করা পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।’
তুরস্কের পরমাণু প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়াকে অংশীদার করার ইঙ্গিত এরদোয়ানের
তুরস্কের পরিকল্পিত সিনোপ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার কেইপিসিওকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে আঙ্কারা।
ইরানের নেতাদের হত্যা করে ‘বেশি দূর’ এগিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরানের নেতাদের হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘একটু বেশিই দূর’ এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
টানা তিন বছর কেউ পাস করেনি যে কলেজে
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় এবারও কেউই পাস করেনি। টানা তিন বছর এ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বড়লেখা হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সভা, জেনারেটর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।\r\n\r\nসোমবার (২ নভেম্বর) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।\r\n\r\nএতে বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম, বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদের
নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানির কাছাকাছি, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের বড় একটি অংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেই ভোট দিতে যাচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জনমত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
দুবাই ভ্রমণে নতুন সুবিধা, অনলাইনেই করা যাবে ভিসার আবেদন
দুবাইয়ের সরকারি পর্যটন ওয়েবসাইট ‘ভিজিট দুবাই’ ব্যবহার করে এখন থেকে সিঙ্গেল ও মাল্টিপল এন্ট্রি পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন বিদেশি পর্যটকেরা। ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ সুবিধা চালু
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকার প্রবেশমুখ গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃঙ্খলা
বোয়ালমারীতে যুবককে কুপিয়ে জখম
নামাজ পড়ে ফেরার পথে ড্রাম ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বালুভর্তি ড্রাম ট্রাকের চাপায় নেকবর আলী সরকার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের গয়াতলা মোড়ে ইছাপুরা–বালুচর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দলে নেই রোনালদো
রোনালদো আগের ম্যাচেও বিশ্রাম পেয়েছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ওয়াসল নিরাপত্তাজনিত কারণে রিয়াদ সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় ম্যাচটি স্থগিত করেছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ল উড়োজাহাজ, ৯ আরোহীর সবাই নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে একটি প্রাইভেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বাহামাগামী ‘লিয়ারজেট ৬০’ মডেলের বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সড়কে তীব্র গতিতে আছড়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়।
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অপবাদে গণপিটুনিতে নিহত ১
নওগাঁর বদলগাছীতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হায়দার আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এর আগে গুরুতর আহত অবস্থায় শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।নিহত হায়দার আলী জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দেওনাহার গ্রামের মৃত কহির উদ্দিনের ছেলে। স্বজনদের দাবি, হায়দার আলী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে স্বভাবের ছিলেন।রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায় গিয়ে দেখা যায়, কাপড়ে ঢাকা হায়দার আলীর নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশে বসে আছেন পুলিশের দুজন সদস্য এবং লাশের চারপাশ ঘিরে কাঁদছেন স্বজনেরা।নিহতের দুলাভাই আব্দুল মজিদ জানান, হায়দার আলী একসময় ঢাকায় রিকশা চালাতেন। কয়েক বছর আগে তা ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। বিয়ের পরপরই স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাকী জীবনযাপন করছিলেন এবং কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রাত ১২টার দিকে হাসপাতাল থেকে ফোনের মাধ্যমে তারা হায়দারের চিকিৎসাধীন থাকার খবর পান। রোববার সকাল ১১টায় হাসপাতালে এসে জানতে পারেন তিনি আর বেঁচে নেই।আব্দুল মজিদের অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বদলগাছীর পাহাড়পুর এলাকায় হায়দারকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।নিহতের ভাতিজা মামুন হোসেন বলেন, দুদিন আগে বদলগাছী এলাকায় যাত্রী সেজে চালককে অজ্ঞান করে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে তার চাচা পাহাড়পুর বাজারে গেলে ওই ভিডিওর ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। মামুন দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজে থাকা ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে তার চাচার চেহারার কোনো মিল নেই। তার চাচা ভবঘুরে হলেও কখনোই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাজমুল হক জানান, শনিবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হায়দার আলীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান।আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বদলগাছী থেকে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্র ধরে ভিডিও ফুটেজ দেখে সন্দেহবশত পাহাড়পুর এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে আক্কেলপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার সকালে তিনি মারা যান। যেহেতু ঘটনাটি বদলগাছী থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই সেখানে মামলা দায়ের হবে। আক্কেলপুর থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করছে।এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘন্টাটি আমরা অবগত হয়েছি। নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার কথা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিনিয়োগে খরা, আস্থার সংকটে স্থবির অর্থনীতি
উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই অলস অর্থ নয়। আমানত থেকে কোনো ব্যাংকের বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) সংরক্ষণের পর বাকি অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংককে মোট আমানতের ১৩ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ৪ শতাংশ এসএলআর রাখতে হয়। বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে এই অর্থ রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুই ধরনের ব্যাংককেই নগদ জমা অনুপাত (সিআরআর) হিসেবে আরও ৪ শতাংশ অর্থ রাখতে হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। আগের মাস জুলাই শেষে এর পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। গত জুনে ছিল ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। এর কারণ হিসেবে দেখা যায়, বিনিয়োগের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিকল্প হিসেবে এই অর্থের বড় অংশ দিয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারকে ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো।পরিসংখ্যান বলছে, কম সুদের ঋণ দিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যাংকাররা। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এই তহবিল থেকে গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবাখাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সবুজ কারখানায় রূপান্তর, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানি এবং হিমায়িত চিংড়িসহ বিভিন্ন খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এক টাকাও বিতরণ হয়নি।এবার কৃষি ও পল্লিঋণের চিত্রের দিকে তাকানো যাক। দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানে কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার পর থেকে কৃষি উৎপাদন তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ধান, স্বাদুপানির মাছ, পাট ও আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব কৃষি খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।চলতি অর্থবছরের শুরুতে কৃষিঋণ বিতরণের গতি কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকগুলো। এ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে শস্য উপখাতে, যদিও তা আগের বছরের তুলনায় কম (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন)।এবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নিজস্ব শাখা ও অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে। এই ৫০ শতাংশের মধ্যে শস্য ও ফসল উপখাতে ৫৫ শতাংশ, প্রাণিসম্পদ উপখাতে ২০ শতাংশ এবং মৎস্য উপখাতে ১৫ শতাংশ বিতরণের কথা বলা হয়েছে। আগের নীতিমালায় শস্য ও ফসল উপখাতে ৬০ শতাংশ, প্রাণিসম্পদ উপখাতে ১৫ শতাংশ এবং মৎস্য উপখাতে ১৫ শতাংশ ঋণ বিতরণের কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ এবার প্রাণিসম্পদ উপখাতে ঋণের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে কমানো হয়েছে শস্য ও ফসল উপখাতে।বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—ব্যাংক খাতে তারল্য থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ছে না। এর কারণ অর্থের অভাব নয়, বরং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের ঘাটতি। একজন উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে শুধু ঋণের সুদহার বিবেচনা করেন না। তিনি দেখেন, বাজারে চাহিদা কেমন, উৎপাদন ব্যয় কত, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়মিত পাওয়া যাবে কি না, কর ও নিয়ন্ত্রক নীতি কতটা স্থিতিশীল এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার পরিবেশ কেমন থাকবে। এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে ব্যাংকে অর্থ পড়ে থাকলেও উদ্যোক্তা ঋণ নিতে আগ্রহী হন না।উচ্চ সুদহার অবশ্যই বিনিয়োগের পথে একটি বড় বাধা। তবে শুধু সুদহার কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ঋণের ব্যয় কমলেও যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা না থাকে, বাজার দুর্বল থাকে, করব্যবস্থা জটিল হয় এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশয় থাকে, তাহলে উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগে যাবেন না। তাই বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা জরুরি।বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কর ও অন্যান্য প্রণোদনার ঘোষণা দিলেই হবে না। এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। কোন খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে, কোথায় বাধা রয়ে গেছে এবং কোন সরকারি সংস্থার কারণে প্রকল্প আটকে আছে—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেসব অবকাঠামো সরাসরি উৎপাদন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমিত রাজস্ব দিয়ে বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো তৈরি করতে হলে ব্যয়ের প্রতিটি টাকার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক হিসাবের পাশাপাশি আস্থার ওপরও নির্ভর করে। উদ্যোক্তা যদি মনে করেন, তাঁর বিনিয়োগের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে, জ্বালানি পাওয়া যাবে, ঋণ পাওয়া সহজ হবে, করনীতি পূর্বানুমানযোগ্য থাকবে এবং নীতি হঠাৎ বদলাবে না, তাহলে তিনি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হবেন। একই নিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করতে হলে শুধু বিনিয়োগের জন্য প্রণোদনা দিলেই চলবে না, বিনিয়োগের অনুকূল আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলেই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের গতি বাড়বে এবং বাংলাদেশও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারবে।বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় পরিচালিত ‘অনুমোদন বিষয়ে জনমত জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল গত ১৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি দলের ওপর পরিচালিত এই জরিপে ১০ হাজার ৪১৩টি ফোনকল করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে জনমতকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো থাকলেও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। উত্তরদাতাদের বড় একটি অংশ মনে করেন, আগের তুলনায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে প্রকৃত উন্নতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।ব্যাংক খাতের সংস্কার বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের আরেকটি পূর্বশর্ত। দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক। প্রকৃত খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি নির্ধারণ, সম্পদের গুণগত মান যাচাই, দুর্বল ব্যাংকের সময়বদ্ধ পুনর্গঠন এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভালো ঋণগ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের একভাবে বিবেচনা করা যাবে না। উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংক খাতে আস্থা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে।এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এসব প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ে। জামানতের সীমাবদ্ধতা, ঋণের উচ্চ ব্যয়, জটিল কাগজপত্র এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি নিতে অনীহা তাদের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, রপ্তানিমুখী খাত, কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন বাড়াতে হবে।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: সাবেক ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সিটি ইউনিভার্সিটি]
জন্মদিনে মান্নাতের সামনে ভক্তদের ঢল, আইকনিক পোজে কৃতজ্ঞতা শাহরুখের
বলিউড তারকা শাহরুখ খানের জন্মদিন ঘিরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তার বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে মধ্যরাত থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন তারা। ভক্তদের এমন ভালোবাসার জন্য বিশেষ বার্তায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাহরুখ। সোমবার (২ নভেম্বর)...
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর চলনবিল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলে বাড়ছে দেশি ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। বিলের জলাশয়, ধানক্ষেত ও গাছপালায় আশ্রয় নিচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। এবার পাখি রক্ষায় এগিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পাখি শিকারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা পাখি ধরতে বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পেতে রাখছেন। তাড়াশের উলিপুর গ্
কালো পোশাক যেভাবে স্টাইল করবেন
ফ্যাশন দুনিয়ায় ক্ল্যাসিক ও শক্তিশালী রংগুলোর একটি হলো কালো। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো কোনো সাধারণ রং নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, আভিজাত্য ও নিজস্ব শক্তির অনন্য প্রতীক। সঠিক কৌশল জানা থাকলে কালো পোশাক দিয়ে প্রকাশ করা যায় দারুণ রুচিশীলতা।
ফেনীতে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার, গণভোটে পাওয়া জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা, পিলখানা ও শাপলা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ফেনীতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।\r\n\r\nরোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয়
মহম্মদপুরে মধুমতির নৌকাবাইচে লাখো মানুষের ঢল
বৈঠার ছন্দ, কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনি আর মাঝি-মাল্লাদের হেঁইও রবে মুখরিত মধুমতি নদী।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.