বাগাতিপাড়ায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন
Bangladesh

বাগাতিপাড়ায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।\r\n\r\nরবিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা

AmarSangbad • 3 Days, Nov 1, 2026 9:19 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

ধর্মপাশায় উড়াল সড়ক নির্মাণের পাইলিংয়ের কাজ শুরু

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রাম থেকে জয়শ্রী ইউনিয়নের জয়শ্রী কুড়ের পাড় গ্রাম পর্যন্ত দুই হাজার ২৮৪মিটার উড়াল সড়ক নির্মাণের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের সামনের সড়কে এই উড়াল

GonoKantho • 3 Days, Nov 1, 2026 9:19 AM
0
• 0 min read
Technology

এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু আজ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হচ্ছে আজ। আবেদন করা যাবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিটি

KholaKagoj • 3 Days, Nov 1, 2026 9:18 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

বাংলাদেশের সোনালি আঁশের সুদিন ফিরছে কি?

বাংলাদেশের পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তবে সেই ভাবনা কেবল পুরোনো পাটকল চালু করা, পাটের বস্তা রপ্তানি বাড়ানো কিংবা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ বাজারজাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমাদের সামনে আরও বড় একটি সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের প্রযুক্তি, দক্ষতা, উৎপাদন অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বাজারব্যবস্থার সংযোগ ঘটানো।একদিকে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ এবং কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এই দুটি শিল্প এত দিন অনেকটা আলাদা পথে এগিয়েছে। অথচ তাদের মধ্যে রয়েছে

Manab Zamin • 3 Days, Nov 1, 2026 9:16 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান নিম্নমানের, টয়লেট অপরিষ্কার এবং মশার উপদ্রব ও বিদ্যুতের সমস্যার কারণে আবাসিক কোর্স হলেও রাতে ভেন্যুতে থাকছেন না অধিকাংশ...

DeshRupantor • 3 Days, Nov 1, 2026 9:15 AM
0
• 0 min read
Bangla

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী

যুবসমাজকে যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য।

Jobabdihi • 3 Days, Nov 1, 2026 9:15 AM
0
• 0 min read
Bangla

জামালপুরে ইউআইইউর সহযোগিতায় ‘রোবো ফেস্ট ২০২৬’

রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সহযোগিতায় এবং ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুরের সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাব এবং ইউনাইটেড ট্রাস্টের উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘রোবো ফেস্ট-২০২৬’ গতকাল জামালপুরে অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ জার্নি ইনটু দ্য ওয়ার্ল্ড অব রোবোটিকস’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তির নানা উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়। এই ফেস্টে ইউআইইউর সেন্টার ফর এআই অ্যান্ড রোবোটিকসের (সিএআইআর) বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ইউআইইউ মার্স রোভার, ইউআইইউ এরিয়াল রোবোটিকস, ইউআইইউ রেসকিউ রোভার এবং ইউআইইউ মেরিনারসহ বিভিন্ন রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প। এতে জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এম এ রশিদ মেমোরিয়াল একাডেমি এবং এম এ গফুর মেমোরিয়াল একাডেমির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।প্রদর্শনীতে ইউআইইউ সেন্টার ফর এআই অ্যান্ড রোবোটিকসের (সিএআইআর) সদস্যরা গ্রাউন্ড, মেরিন ও এরিয়াল-এই তিনটি ক্ষেত্রে রোবোটিকস প্রযুক্তির বিভিন্ন উদ্ভাবন ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। গ্রাউন্ড রোবোটিকসের আওতায় মার্স রোভার ও রেসকিউ রোভার, মেরিন রোবোটিকসের আওতায় ইউআইইউ মেরিনার এবং এরিয়াল রোবোটিকসের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।

NayaDiganta • 3 Days, Nov 1, 2026 9:15 AM
0
• 0 min read
Technology

শেষ বলের রোমাঞ্চে হারল বাংলাদেশ, আসর থেকে শূন্য হাতে বিদায়

কোনো জয় ছাড়াই হংকং সিক্সেসের এবারের আসর শেষ করল বাংলাদেশ। ১১তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ভারত। বাংলাদেশের মতো তারাও ছিল জয়হীন। তবে নিজেদের শেষ ম্যাচে শেষ বলে বাংলাদেশকে হারায় ভারত। বাংলাদেশকে দেশে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।

Bd-Pratidin • 3 Days, Nov 1, 2026 9:15 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

ধর্মের নামে মব, বিচারের নামে বর্বরতা

সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার সিতির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে অনেকেই মর্মাহত। কিন্তু এ তো শরিয়া আইনেরই প্রয়োগ। যারা এই যুক্তিতে দেশে তৌহিদী জনতার নামে পিটিয়ে মারা জায়েজ মনে করেন, তাদের এই কান্না ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়। শরিয়া আইনের বীভৎস রূপ দেখে হাহুতাশ করলে তো আর পুরো শরিয়া মানা হলো না। এমন মৃত্যুদণ্ড সৌদিতে অহর্নিশ হচ্ছে। সেখানে গড়ে বছরে ৩০০ জনের বেশি মানুষের শিরোচ্ছেদ হয়। তারপরও অপরাধ কমে না। এতে প্রমাণিত, প্রকাশ্য বীভৎস শাস্তি অপরাধ কমায় না।আমরা সৌদির শিরোচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডে কাঁদছি, কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে আমরা কী করছি? তৌহিদী জনতার নামে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে, বস্তাবন্দি করে হত্যা করছি। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এই জোশ আরও বেড়েছে। সর্বশেষ বলি সাতক্ষীরার দেবহাটার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। ধর্ম অবমাননার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে রাত সাড়ে আটটায় সেখানেও ঢুকে দ্বিতীয় দফায় পিটুনি দেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, এটি পরিকল্পিত হত্যা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অনার্স-মাস্টার্স করা, দুই শিশু সন্তানের জনক শামীম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে কলহের কথোপকথন রেকর্ড করে ছড়ানো হয়। স্থানীয় জামায়াত অফিসে সংগঠিত হয়ে হামলা করা হয়। আর নিজেকে মুফতি পরিচয় দেওয়া ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভে ডেকে মব তৈরি করেন।আমরা এখন প্রতিদিনই এমন বস্তাবন্দি লাশ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর। টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, ঢাকায় এক সমাবেশে চরমপন্থীরা সরকারকে হুমকি দিয়েছে—ধর্ম অবমাননাকারীকে সরকার মৃত্যুদণ্ড না দিলে তারা নিজেরাই তা দেবে। এটি আইএস-আল-কায়েদার ভাষা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনেক মিছিলে আইএসের পতাকা দেখা গেছে। রংপুরের তারাগঞ্জে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধ হয়েছে এক হুজুরের হুমকিতে। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের সব সরকারই প্রশ্রয় দিয়েছে। টাইমের মতে, আওয়ামী লীগ একই সঙ্গে দমন ও তুষ্ট করেছে, ভোটের জন্য কওমি মাদ্রাসা ছড়িয়ে দিয়েছে, ব্লগার হত্যায় প্রথমে উদাসীন ছিল। আবার এই কঠোর অবস্থানের বিরোধিতা করেছে বিএনপি, এমনকি হলি আর্টিজানকেও নাটক বলেছে। ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত আমলে বাংলা ভাইয়ের উত্থান আমরা দেখেছি। প্রকাশ্যে হাত-পা বেঁধে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ৩২টি লাশের পরিচয় মিলেছিল। সহায়তা করেছিল পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতারা। তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বাবর।আমাদের ধর্মীয় শিক্ষায় গলদ আছে কি না, ভাবতে হবে। অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠলেই মানুষ এত হিংস্র হয় কেন? বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ অন্যায় করে, ঘুষ খায়, মানুষ ঠকায়। কিন্তু ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কথা শুনলেই রাস্তায় নেমে পড়ে। অথচ ব্যক্তিজীবনে ধর্মকর্মে একনিষ্ঠ নয়। আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শাস্তি আছে, কিন্তু ‘অনুভূতি’র কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই, দেওয়াও সম্ভব নয়। এই অস্পষ্টতার সুযোগেই চলছে হত্যার উৎসব। তালিকাটি দীর্ঘ। বাগেরহাটে ছয় বছরের শিশু মুসলিমার বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ, কুষ্টিয়ায় সুফি পীর শামীম রেজাকে পিটিয়ে হত্যা, ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ মহাসড়কে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া, গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে পোড়ানো, পটিয়ায় পার্থ বিশ্বাস, পাটগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন জুয়েলকে ৪২০ মিটার টেনে পুড়িয়ে হত্যা—যেখানে ৬৫ শতাংশ ছিল কিশোর।এই মবের চেহারা দেখুন। দরবার ভাঙচুর ও হত্যায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে শিশু, কিশোর, যুবক—দু-একজন ছাড়া কারও মুখে দাড়ি-টুপি নেই। বেশির ভাগ হাফপ্যান্ট আর লুঙ্গি পরা। তবে এদের যারা উত্তেজিত করে, তারা ভিন্ন জগতের মানুষ। তাদের বলা হয় ‘তৌহিদী জনতা’। এই বিক্ষুব্ধ জনসমষ্টি প্রচলিত আইন মানে না, প্রশাসন মানে না। ধর্ম নিয়ে বিতর্ককারীদের হত্যায় তারা স্বর্গীয় সুখ পায়। জিহাদের উত্তেজনায় জীবিত মানুষকে পুড়িয়ে মারে, কবর থেকে লাশ তুলে উল্লাস করে। মানুষ পোড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এটাকে তারা ধর্ম অবমাননা মনে করে না। এমন জনগোষ্ঠী বেশি দেখা যায় পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ভোট হারানোর ভয়ে বাম-ডান সব দল এই উগ্রতাকে সমীহ করে। তাই গণতান্ত্রিক নির্বাচন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে সাম্প্রদায়িক করে তুলছে।এখানেই গাজীপুরের আউচপাড়ার ঘটনাটি প্রাসঙ্গিক। সাত বছরের ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘চুমু’র কথা স্বীকার করতেই স্বজনরা চড় মেরে গণপিটুনি দেন। এরপর আলেম সমাজ বলতে শুরু করেছে, ‘আইন নিজের হাতে নেবেন কেন, শিক্ষক অপরাধ করলে আইন আছে।’ অথচ এই আলেম সমাজই এত দিন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল। ন্যায্য ক্ষোভ থেকে যখন মানুষ আইন হাতে তুলে নেয়, তখন বিচার থাকে না, থাকে শুধু মব। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর—এই নয় মাসে মব সহিংসতায় ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান সাইদুর রহমান ২০২৫ সালের মূল্যায়নে বলেছিলেন, ‘সমাজে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সরকার মব সহিংসতা বন্ধে কোনো উদ্যোগই নেয়নি।’ উত্তরায় ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, টঙ্গীতে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা তারই ধারাবাহিকতা।ইসলামে মুরতাদের শাস্তি নিয়ে হাদিস আছে—‘যে দ্বীন পরিবর্তন করবে, তাকে হত্যা করো’ (বুখারি ৬৯২২)। সূরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতে অশান্তি সৃষ্টিকারীর জন্য মৃত্যুদণ্ড, শূলবিদ্ধ করা বা হাত-পা কাটার কথা আছে। কিন্তু সেখানে তওবার সুযোগ, বিচারকের রায়, সাক্ষ্য-প্রমাণের বাধ্যবাধকতাও আছে। সৌদি রাষ্ট্র যখন সেই প্রক্রিয়া না মেনে তাজিরের নামে শিরোচ্ছেদ করে, তখন তা যেমন বর্বরতা, তেমনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া তৌহিদী জনতা যখন পিটিয়ে, ঝুলিয়ে, পুড়িয়ে মারে, তখন তা আরও বড় বর্বরতা। সৌদিতে রাষ্ট্র কল্লা কাটে, বাংলাদেশে মব কল্লা কাটে—পার্থক্য শুধু তলোয়ার কার হাতে। দুটোই দেখিয়ে দেয়, ধর্মকে যখন বিচারের বদলে প্রতিশোধের হাতিয়ার বানানো হয়, তখন অপরাধ কমে না, শুধু লাশের সংখ্যা বাড়ে।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক]

Sangbad • 3 Days, Nov 1, 2026 9:12 AM
0
• 0 min read
Bangla

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত অটোমেশন চালুর সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদকভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সেবার গতি বাড়াতে সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু এবং ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ডিজিটাইজ করার সুপারিশ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে ভূমি অফিস, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ভূমিসংক্রান্ত সেবা আরো জনবান্ধব ও ত্রুটিমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ভূমি ভবন পরিদর্শনকালে কমিটির পক্ষ থেকে এসব সুপারিশ করা হয়। পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান এমপি। পরিদর্শনকালে কমিটির সদস্য শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন, সুলতানা আহমেদ ও মুহাম্মদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভূমি অফিস, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস এবং উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর ফলে ভূমিসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভূমিসংক্রান্ত সেবার কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি রেকর্ড সংশোধন ও হালনাগাদকরণ, ই-নামজারি, জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ, রেকর্ড সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর এবং রেন্ট সার্টিফিকেট মামলাসহ ভূমিসংক্রান্ত সব সেবা দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে।পরিদর্শনকালে কমিটির সভাপতি একটি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনায় চলমান অটোমেশন সফটওয়্যার প্রয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব অফিসের কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।

NayaDiganta • 3 Days, Nov 1, 2026 9:11 AM
0
• 0 min read
Business

ইতিহাসের বৃহত্তর ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই

ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিন্যান্স থেকে চুরি হওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ সরিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত। চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর ক

AmarDesh • 3 Days, Nov 1, 2026 9:11 AM
0
• 0 min read
Entertainment

তানভীর মোকাম্মেলের “সোজন বাদিয়ার ঘাট” চলচ্চিত্রের সত্তর ভাগ শুটিং সম্পন্ন

তানভীর মোকাম্মেলের পরিচালনায় কবি জসীমউদ্দীনের অমর লোক-কাহিনী “সোজন বাদিয়ার ঘাট” চলচ্চিত্রটির সত্তর ভাগ শুটিং সমাপ্ত হয়েছে। “সোজন বাদিয়ার ঘাট” ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন তানভীর মোকাম্মেল, চিত্রগ্রহণ করছেন রাকিবুল হাসান, সম্পাদনা করছেন মহাদেব শী, শিল্পনির্দেশনায় রয়েছেন উত্তম গুহ, আবহঙ্গীত

GonoKantho • 3 Days, Nov 1, 2026 9:10 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে সুযোগ বাড়ছে বাংলাদেশের

ইউরোপের বাজারে সস্তা পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। স্বল্পমূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক ও হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করায় চীন থেকে সরাসরি ছোট পার্সেলে পণ্য পাঠানোর ব্যবসা চাপে পড়েছে। এর প্রভাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে

AmarDesh • 3 Days, Nov 1, 2026 9:10 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

কৃষির ভবিষ্যৎ: উৎপাদন বাড়ুক, বৈচিত্র‍্যও থাকুক

ক্রমবর্ধমান খাদ্যচাহিদা ও সীমিত কৃষিজমির বাস্তবতায় প্রতি একক জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কৃষির জন্য মূল্যবান স্থানীয় জাতের জিনগত সম্পদ সংরক্ষণ করাও প্রয়োজন। এ জন্য দরকার বুদ্ধিমান ও ভারসাম্যপূর্ণ জাতনীতি।বাংলাদেশের কৃষি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রশ্নটি আর শুধু ‘কী চাষ করব’—এতে সীমাবদ্ধ নেই। বড় প্রশ্ন হলো, ক্রমশ কমতে থাকা কৃষিজমি থেকে ক্রমবর্ধমান মানুষের জন্য কীভাবে আরও বেশি খাদ্য উৎপাদন করা যাবে? একদিকে বা...

Sangbad • 3 Days, Nov 1, 2026 9:10 AM
0
• 4 min read
Bangla

সেন্টমার্টিনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে না জাহাজ চলাচল

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে আজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছাড়বে না।

Samakal • 3 Days, Nov 1, 2026 9:09 AM
0
• 0 min read
Bangla

‘জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নেই’, কেন বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

AjkerPatrika • 3 Days, Nov 1, 2026 9:09 AM
0
• 0 min read
Bangla

এক রুট, এক কোম্পানি: ৬ রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরু আজ

রাজধানী ঢাকায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও যাত্রীবান্ধব করতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া...

Ittefaq • 3 Days, Nov 1, 2026 9:09 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

পুষ্পপাড়ায় জোড়া খুন

৪৫ ঘণ্টা পর মামলা, এজাহারে ১৫ জনের নাম

Manab Zamin • 3 Days, Nov 1, 2026 9:08 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন মাহমুদুল হক শাহীন

‎মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কেন্দুয়া উপজেলার আমতলী গ্রামের মাহমুদুল হক শাহীন ও তাঁর ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দলফা ও আশপাশের এলাকায়। বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে তাঁদের জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি সৃষ্টি করে এক আবেগঘন

GonoKantho • 3 Days, Nov 1, 2026 9:08 AM
0
• 0 min read
Bangla

খাদ্যে ভেজাল: নীরব বিপর্যয়

ভেজাল খাদ্য মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মানুষের নৈতিকতারও অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতায় ‘ভেজাল’ শব্দটি আমাদের জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এটি এখন কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং মানবতার জন্য এক নীরব বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। অতিমুনাফালোভী কিছু মানুষের কারণে আজ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মিশছে বিষ।বর্তমানে চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি থেকে শুরু করে ফলমূল ও দুগ্ধজাত পণ্য—সব ধরনের খাদ্যেই রাসায়নিক ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। ফরমালিন, কার্বাইড, বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত রং, ইউরিয়া এবং ক্ষতিকর সংরক্ষণকারী উপাদানের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে যকৃত ও কিডনির ক্ষতি, ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পূর্ণ হওয়ার আগেই অনেকে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ, ভেজাল খাদ্যের এই আগ্রাসন মানুষের পার্থিব জীবনকে সংকুচিত করছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।আজকের দিনে বাজার থেকে নির্ভেজাল খাদ্যপণ্য কেনা যেন ভাগ্যের ব্যাপার। চাল পালিশ করে চকচকে করা থেকে শুরু করে ফলমূল, শাকসবজি ও মাছে ফরমালিন ও কার্বাইডের যথেচ্ছ ব্যবহার এখন বহুল আলোচিত বিষয়। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে ডিটারজেন্ট ও ইউরিয়া, গুঁড়া মসলায় ইটের গুঁড়া ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত রং, এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও শিশুখাদ্যেও ভেজালের অভিযোগ পাওয়া যায়। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতুযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে যকৃতের রোগ, কিডনি বিকল, হৃদ্‌রোগ এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা পুষ্টির বদলে প্রতিনিয়ত শরীরে প্রবেশ করাচ্ছি দীর্ঘমেয়াদি বিষ।ভেজাল খাদ্যের এই রমরমা ব্যবসার পেছনে রয়েছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর চরম অনৈতিকতা এবং রাতারাতি ধনী হওয়ার অন্ধ লোভ। একশ্রেণির মানুষ অধিক মুনাফার জন্য অবলীলায় কোটি কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এই চক্র শুধু মানুষের পকেট কাটছে না, তাদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনও কেড়ে নিচ্ছে। যে সমাজ খাদ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত জাঁকজমক অনেকটাই অর্থহীন।বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে খাদ্যে ভেজালের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৭১৩টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ৫৭১টি নমুনায়, অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশে, ভেজাল, দূষণ কিংবা মানহীন উপাদান পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছায়। আচার, সস, চিপস, মুড়ি, ফলের রস ও পানীয়, সরিষার তেল, মাখন, সয়াবিন তেল, ডালডা এবং মধুতে সবচেয়ে বেশি ভেজাল বা দূষণ পাওয়া গেছে বলে কর্তৃপক্ষের তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও আইসিডিডিআরবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিরাপদ খাদ্যের অভাবে দেশে প্রতিবছর বহু মানুষ ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বা খাদ্য নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করাকে প্রায় সব বড় ধর্মেই গুরুতর অন্যায়, পাপ ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রধান ধর্মগুলোতে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও সততা ও মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে।খাদ্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়া রোধে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে ভেজাল রোধ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাজার তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাঝেমধ্যে জরিমানা বা কারখানা সিলগালা করার খবর আমরা গণমাধ্যমে দেখি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব শাস্তি অপরাধের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত এবং সাময়িক। নিয়মিত ও কঠোর তদারকির অভাব, দুর্নীতির সুযোগ এবং আইনের ফাঁকফোকর গলে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে অপরাধীরা বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। শুধু নামমাত্র জরিমানা করে এই সুসংগঠিত অপরাধচক্রকে দমন করা সম্ভব নয়। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে।তবে শুধু সরকারের সদিচ্ছা বা আইনের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নাগরিক সমাজকেও এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ভোক্তা হিসেবে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। কৃত্রিম উপায়ে চকচকে করা কিংবা অসময়ে বাজারে আসা ফলমূল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বর্জন করতে হবে। রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজকে উৎসাহিত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্যের উৎস তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা এখন সময়ের দাবি।খাদ্য মানুষের জীবনধারণের জন্য, জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। অথচ ভেজাল খাদ্যের এই নীরব আক্রমণ আমাদের প্রতিনিয়ত অসুস্থতার দিকে এবং পরিণামে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি সুস্থ ও সবল জাতি ছাড়া কোনো দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজার থেকে বিষের আধিপত্য দূর করতে হবে। অন্যথায় খাদ্যের মোড়কে মোড়ানো এই বিষ আমাদের সবাইকে অসময়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।ভেজাল খাদ্য শুধু আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবনের আয়ু কেড়ে নিচ্ছে না, মানুষের নৈতিকতাও নষ্ট করছে। যিনি খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছেন, তিনি মানবজীবনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছেন। আর যিনি জেনেশুনে তা মুখ বুজে সহ্য করছেন, তিনিও এই সামাজিক অপরাধের বিস্তার রোধে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন না।[লেখক: উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন]

Sangbad • 3 Days, Nov 1, 2026 9:08 AM
0
• 0 min read
Thu ☀️ 31°
Fri ⛅ 30°
Sat 🌧️ 28°
Sun ⛅ 29°
Mon ☀️ 32°

Trending News

Daily Newspaper