Bangla
শীতের ফুলকপি এবার ফলুক নিজের টবে
শীতের বাজারে
ফুলকপির চাহিদা
বাড়ে।
রান্নায় নানা
পদে ব্যবহার
করা এই
সবজি চাইলে
বাড়িতেও ফলানো
সম্ভব।
এজন্য বড়
বাগান বা
বিস্তীর্ণ জমির প্রয়োজন নেই।
পর্যাপ্ত রোদ
পায় এমন
ছাদ কিংবা
বারান্দার এক পাশে একটি বড়
টব রাখলেই
শুরু করা
যায় চাষের
প্রস্তুতি।টাটকা ফুলকপি
নিজের হাতে
ফলানোর জন্য
প্রয়োজন উপযুক্ত
টব, ঝুরঝুরে
মাটি, নিয়মিত
পানি ও
প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। কয়েকটি বিষয় খেয়াল
রাখলে সীমিত
জায়গাতেও গড়ে
তুলতে পারেন
ছোট সবজিবাগান।প্রথমেই
বেছে নিন উপযুক্ত টবফুলকপির গাছের শিকড় ছড়িয়ে বেড়ে
ওঠার জন্য
পর্যাপ্ত জায়গা
দরকার। তাই
টবের আকার
নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। অন্তত
১২ থেকে
১৪ ইঞ্চি
চওড়া ও
গভীর টব
ব্যবহার করা
ভালো। টবের
নিচে পানি
বের হওয়ার
ছিদ্রও থাকতে
হবে। কারণ
অতিরিক্ত পানি
জমে থাকলে
শিকড় পচে
যেতে পারে।টবে ব্যবহারের
জন্য দোআঁশ
মাটির সঙ্গে
ভালোভাবে পচানো
জৈব সার
অথবা ভার্মিকম্পোস্ট
মিশিয়ে নিন।
মাটি যেন
ঝুরঝুরে থাকে
এবং সহজে
পানি নিষ্কাশন
করতে পারে,
সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে।বীজ থেকে চারা তৈরির পদ্ধতিফুলকপি চাষের শুরুতে সরাসরি বড়
টবে বীজ
না বুনে
ছোট বীজতলা
বা সিডলিং
ট্রেতে চারা
তৈরি করা
সুবিধাজনক। বীজ বোনার পর মাটি
হালকা ভেজা
রাখুন।
তবে অতিরিক্ত
পানি দেওয়া
যাবে না।চারা গজিয়ে
কয়েকটি পাতা
বের হলে
এবং গাছ
কিছুটা শক্ত
হলে সাবধানে
তুলে মূল
টবে বসিয়ে
দিন। একটি
টবে একটি
চারা রাখলে
গাছের বেড়ে
ওঠার জন্য
পর্যাপ্ত জায়গা
পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে
পানি ও
পুষ্টি গ্রহণের
প্রতিযোগিতাও কমে।রোদ ও পানির ভারসাম্য রাখুনফুলকপি শীতকালীন সবজি হলেও গাছের
স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আলো প্রয়োজন।
প্রতিদিন অন্তত
চার থেকে
ছয় ঘণ্টা
সরাসরি সূর্যের
আলো পায়,
এমন স্থানে
টব রাখুন।পানি দেওয়ার
ক্ষেত্রে মাটির
অবস্থা বুঝে
সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওপরের অংশ
শুকিয়ে এলে
পানি দিন।
মাটিতে প্রয়োজনীয়
আর্দ্রতা বজায়
রাখা জরুরি,
তবে টবে
যেন পানি
জমে না
থাকে।গাছের বৃদ্ধিতে সার দিনগাছের প্রয়োজন
অনুযায়ী অল্প
পরিমাণে পচানো
জৈব সার
বা ভার্মিকম্পোস্ট
ব্যবহার করা
যায়। এতে
গাছ পুষ্টি
পাবে। তবে
কাঁচা গোবর
কিংবা অতিরিক্ত
রাসায়নিক সার
প্রয়োগ করা
ঠিক নয়। সারের পরিমাণে অসতর্ক হলে
গাছের ক্ষতি
হতে পারে।পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাবেন যেভাবেফুলকপির পাতায় শুঁয়োপোকা, জাবপোকাসহ বিভিন্ন
ক্ষতিকর পোকা
আক্রমণ করতে
পারে। তাই
নিয়মিত গাছের
পাতার ওপর
ও নিচের
অংশ পরীক্ষা
করুন। পোকা
বা ডিম
দেখা গেলে
হাতে সরিয়ে
ফেলুন।প্রয়োজন হলে সবজি চাষের উপযোগী
নিরাপদ বালাই
ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করুন। পাশাপাশি
পাতায় অস্বাভাবিক
দাগ বা
ক্ষত দেখা
যাচ্ছে কি
না, সেদিকেও
নজর রাখুন।কত দিনে মিলবে ফুলকপি?ফুলকপির জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার
ওপর নির্ভর
করে বীজ
বোনার পর
ফসল সংগ্রহের
উপযোগী হতে
সাধারণত ৭০
থেকে ১০০
দিন বা
তারও বেশি
সময় লাগতে
পারে।গাছের মাঝখানে
ফুলকপির সাদা
অংশ বা
মাথা ভালোভাবে
গঠিত ও
শক্ত হলে
তা সংগ্রহ
করা যায়।
তবে সংগ্রহ
করতে বেশি
দেরি করলে
ফুলকপির মাথা
আলগা হয়ে
যেতে পারে।
তাই উপযুক্ত
অবস্থায়ই সবজি
তুলে নেওয়া
ভালো।অল্প জায়গায় গড়ে তুলুন সবজিবাগানছাদ কিংবা
বারান্দায় ফুলকপি চাষের জন্য বড়
আয়োজনের দরকার
নেই। সঠিক
মাপের টব,
উপযুক্ত মাটি,
পর্যাপ্ত রোদ
এবং নিয়মিত
পরিচর্যা থাকলেই
শুরু করা
সম্ভব। শীতের
মৌসুমে বাজারের
পাশাপাশি নিজের
টবে ফলানো
ফুলকপিও হতে
পারে পরিবারের
খাবারের অংশ।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.