Entertainment
মেঘনা নদীর ভাঙনে হুমকিতে কৃষি জমি
মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নদী-তীরবর্তী জনপদ। নদীভাঙনে বসতভিটা, প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। নদীর পানি ও স্রোত বাড়লে ভাঙনের ঝুঁকি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে আগামী কয়েক বছরে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদীতীর দখল ও ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে ভাঙনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দী হাড়িয়া, সোনামুই, বৈদ্যেরবাজার ও নুনেরটেকসহ মেঘনা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের আশঙ্কা বিরাজ করছে। নুনেরটেক গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কাদির মেম্বার বলেন, নদীপারের মানুষের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানো। নদী যখন তীরের দিকে এগিয়ে আসে, তখন বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভাঙনে শুধু জমি হারায় না মানুষ, হারিয়ে যায় তাদের জীবিকা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও। একই এলাকার শুক্কুর আল মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান অস্থায়ীভাবে বস্তা ফেলে আনন্দবাজার গুচ্ছগ্রাম ও রঘুনারচরসহ ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় কাজ করছেন। তবে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ করা না হলে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এসব এলাকার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল আলম রাজিব বলেন, সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২০০ মিটার জরুরি কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় ভাঙন রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙনকবলিত স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.