Bangla
শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-না’গঞ্জে লিংক রোড ৪ ঘণ্টা বন্ধ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে প্রায় ৪ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আধা ঘণ্টা পর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ওপর অবস্থান নেয়।বেলা আড়াইটার দিকে সড়কের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। তবে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট বৃষ্টির পর কিছুক্ষণের জন্য সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। পরে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা আবার জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, তার মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বাসাভাড়া দিতে হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এক মাসের বাজারে আরো ১০ হাজার টাকা লাগে। চিকিৎসার একটি পরীক্ষা করাতেই খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। বাকি খরচ কিভাবে মেটাবেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের একটাই দাবি মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিক বলেন, চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, ‘বাঁচার মতো বেতন দিতে হবে। আমরা কাজ করেই বাঁচতে চাই। কাজ ছাড়া তো টাকা চাই না। শহরে বাসার ভাড়া তো আপনারা জানেন। আমাদের বেতন যদি না বাড়ায়, তাহলে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আর দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিক। নাহলে আমাদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার করতেই হবে। নাহলে আমরা আন্দোলন থামাবো না।’অবরোধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে, আবার কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।সিলেট থেকে আসা হাজেরা বেগম সাইনবোর্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। পরে আধা কিলোমিটার ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাওয়ার পর তাকে নেমে হাঁটতে হয়। তার গন্তব্য চাষাঢ়া, যা সেখান থেকে অন্তত ছয় কিলোমিটার দূরে। হাজেরা বলেন, ‘একা একজন মহিলা মানুষ আমি দুইটা ব্যাগ নিয়ে এত পথ কেমনে হাঁইটা যামু তাই ভাবতেছি।’অন্যদিকে, ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে যানজটে আটকে পড়েন চালক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রওয়ানা হইছিলাম, গরু নিয়ে যাবো গোগনগর। কিন্তু এক জায়গায়ই গত ২ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সামনে কতটুকু যানজট তাও বুঝতেছি না।’ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়কের এক পাশে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে শ্রমিকরা তখনো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’ শ্রমিকরা এ সময়ও তাদের দাবিমতো মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন।বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.