Bangla
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সময়সীমা বাড়ল
অর্থনৈতিক মন্দা, বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা ও তারল্যসঙ্কটে ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক দরপতনের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট উত্তরণে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। টানা মন্দা ও তারল্যসঙ্কটে থাকা পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও তারল্য প্রবাহ বজায় রাখতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর যে বিশেষ তহবিলসুবিধা চালু ছিল, তার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ফলে পূর্বে নির্ধারিত ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এই সুযোগ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।দীর্ঘদিন ধরে মূলধনসঙ্কট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছে দেশের শেয়ারবাজার। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকার্যক্রম সচল রাখতে এবং বাজারে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রসঙ্গত করোনা মহামারী চলাকালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেয়ারবাজারে তীব্র তারল্যসঙ্কট মোকাবেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই বিশেষ তহবিল গঠন নীতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়ন কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। এই বিশেষ তহবিলের বড় সুবিধাটি হলো এই তহবিলের আওতায় করা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত শেয়ারবাজার এক্সপোজার লিমিট বা ধরাবাঁধা বিনিয়োগ সীমার বাইরে থাকে।তবে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় বাড়ানোর পাশাপাশি তহবিলের আকার বৃদ্ধিরও দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রতিটি ব্যাংকের জন্য এই সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা এবং মেয়াদ আগামী ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আরো পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, পুঁজিবাজারে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সঙ্কট তারল্য। এখানে ভালো কোম্পানি ও শেয়ারের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হলেও তা নিরসনে ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজারগুলোর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তাই উপস্থিত সঙ্কট নিরসনে তারল্য প্রবাহের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা। অবশ্য বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, কেবল তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোই শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের সঙ্কট নিরসনের একমাত্র সমাধান নয়। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের মানসিকতা তৈরি, বাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। মেয়াদ বৃদ্ধির সুফল শেষ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছা ও সার্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।এদিকে আগের দু’দিনের মতো গতকালও বড় ধরনের সূচক হারিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারগুলো। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট হারায়। পাঁচ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিন শেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ২৮৪ দশমিক ৩১ পয়েন্টে। বিগত সাত মাসের মধ্যে সূচকটির এ অবস্থান সর্বনি¤œ। এ বছরের ২১ মের পর আর এ পর্যায়ে নামেনি সূচকটি। এদিন বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ২৮ ও ৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পতনের মাত্রা ছিল আরো ভয়াবহ। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৭৮ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট অবনতি ঘটে গতকাল। ১৪ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট থেকে সকালে যাত্রা করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ১৪ হাজার ২১০ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২১৮ দশমিক ২১ ও ১২৪ দশমিক ৯২ পয়েন্ট। সূচকের বড় অবনতি সত্ত্বেও গতকাল ডিএসইর লেনদেনে বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। পুঁজিবাজারটি গতকাল ৫৬৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৪৭ কোটি টাকা বেশি। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪১৮ কোটি টাকা। তবে লেনদেনের অবনতি ঘটে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এদিন বাজারটি ১২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে। আগের দিন এখানে ১৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছিল। গতকাল ডিএসইর লেনদেনে টেক্সটাইল খাতের সুস্পষ্ট প্রাধান্য ছিল। এদিন লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল খাতটি। যেখানে টানা দরপতনের কারণে অন্য খাতগুলোর অধীনে থাকা কোম্পানিগুলোর মূল্যস্তর তলানিতে নেমে আসছে সেখানে এ খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর উঠে যাচ্ছে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে। বাজারে সূচকের বড় অবনতির মধ্যেও গতকাল ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির সাতটিই ছিল টেক্সটাইল খাতের। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনভয় টেক্সটাইলস। ৩২ কোটি ১১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪১ লাখ ৪৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এদিন। ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকায় ২৮ লাখ শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল মতিন স্পিনিং মিলস। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং ও সায়হাম টেক্সটাইলস।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.